চীন গোপনে পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র যে অভিযোগ করেছে, তা প্রত্যাখ্যান করেছে বেইজিং। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগকে ‘‘একেবারে মিথ্যাচার’’ বলে অভিহিত করেছে চীন। বেইজিং বলেছে, নিজেদের পারমাণবিক পরীক্ষা পুনরায় শুরুর অজুহাত তৈরি করতেই ওয়াশিংটন ওই অভিযোগ করেছে।
সোমবার চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে ওয়াশিংটনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এর আগে, শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি টমাস ডিন্যানো চীনের বিরুদ্ধে ওই অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, চীন পারমাণবিক বিস্ফোরকের পরীক্ষা চালিয়েছে। এর মধ্যে ২০২০ সালের ২২ জুন একটি পরীক্ষার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। টমাস ডিন্যানো বলেন, ‘‘চীন পারমাণবিক বিস্ফোরকের পরীক্ষা চালিয়েছে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র অবগত আছে। তারা শত শত টন বিষ্ফোরণের ক্ষমতাসম্পন্ন পরীক্ষার প্রস্তুতিও নিয়েছে।’’
মার্কিন এই আন্ডার সেক্রেটারি বলেন, ২০২০ সালের ২২ জুনে চীন এমন একটি পরীক্ষা চালায়। বেইজিং এই কার্যক্রম আড়াল করার জন্য ‘ডিকাপলিং’ পদ্ধতি ব্যবহার করেছে। এই পদ্ধতিতে ভূ-কম্পন মাপক যন্ত্রে এর প্রভাব শনাক্ত হয় না।
সোমবার এএফপিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং নির্জলা মিথ্যাচার। এর মাধ্যমে নিজেদের পারমাণবিক পরীক্ষা পুনরায় শুরুর অজুহাত বানানোর যুক্তরাষ্ট্রের চেষ্টার তীব্র বিরোধিতা করছে চীন।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অবিলম্বে তাদের দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ড বন্ধ করার’ আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং। গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, মস্কো ও বেইজিংয়ের সঙ্গে ‘সমতার ভিত্তিতে’ পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা শুরু করবে ওয়াশিংটন। তবে তিনি কী ধরনের পারমাণবিক পরীক্ষা পুনরায় চালু করতে চান, সে বিষয়ে কোনও ব্যাখ্যা দেননি।
ডিন্যানোর এসব মন্তব্য আসে এমন এক সময়ে, যখন রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক আলোচনার আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি নতুন পরিকল্পনা উপস্থাপন করছিলেন তিনি। তার ওই উপস্থাপনায় পারমাণবিক অস্ত্রের ওপর নতুন সীমা নির্ধারণের কথা বলা হয়। ২০১০ সালে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির মেয়াদ গত বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে।
ওই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় গত অর্ধশতাব্দীর মধ্যে এই প্রথম বিশ্বের প্রধান পারমাণবিক শক্তিধর দুই দেশ লাগামহীনভাবে তাদের কৌশলগত পরমাণু অস্ত্রের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করার সুযোগ পেয়েছে। এদিকে, চীন ‘‘এই পর্যায়ে’’ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ আলোচনায় যোগ দেবে না বলে ইতোমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে।
সূত্র: এএফপি, রয়টার্স।
আপনার মতামত লিখুন : :