পবিত্র মাহে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ও মজুতদারির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন মাগুরা-১ আসনের বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান। তিনি বলেন, রমজানকে পুঁজি করে কোনো অসাধু চক্র যেন সাধারণ মানুষের কষ্টের কারণ হতে না পারে সে বিষয়ে তিনি সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবেন।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) তিনি মাগুরা শহরের পুরাতন বাজার পরিদর্শন করেন। এ সময় চাল, মাছ, মাংস, ডিম ও সবজির দোকান ঘুরে দেখেন এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন। পাশাপাশি বাজারে আসা সাধারণ ক্রেতাদের কাছ থেকে নিত্যপণ্যের দাম ও বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে সরাসরি অভিযোগ ও অভিজ্ঞতা শোনেন।
তিনি ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ন্যায্য লাভের বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা করা অনৈতিক এবং রমজানের শিক্ষার পরিপন্থী।
বাজার পরিদর্শন শেষে তিনি ঢাকার রোড এলাকা ও ভায়না মোড়ের ফলের দোকানগুলো ঘুরে দেখেন। সেখানে খুচরা ও পাইকারি ফল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং রমজানকে সামনে রেখে ফলের বাজার স্থিতিশীল রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে খেজুর ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও কথা বলে তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করেন—রমজানকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হলে তা বরদাশত করা হবে না।
পরিদর্শনকালে এমপি মনোয়ার হোসেন খান বলেন, রমজান ত্যাগ, সংযম, আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়ার মাস। এই মাস কেবল ক্ষুধা-পিপাসা সহ্য করার নাম নয়; বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং মানবতার কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করার শিক্ষা দেয়।
তিনি আরও বলেন, বাজার মনিটরিংয়ের বিষয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব থেকেও নির্দেশনা রয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্টভাবে বলেছেন রমজানে সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়ে, এমন কোনো কাজ যেন না হয়। প্রতি বছর দেখা যায়, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এ মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে বাড়িয়ে দেয়, যা অনৈতিক এবং স্বল্প আয়ের মানুষের প্রতি জুলুমের শামিল।
মনোয়ার হোসেন খান বলেন, জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছে তাদের সেবা করার জন্য। সাময়িক লাভের জন্য আখিরাতের ক্ষতি ডেকে আনা উচিত নয়। একদিন আল্লাহর কাছে সবাইকে হিসাব দিতে হবে। কোথাও অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি, মজুতদারি বা বাজার কারসাজির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সহযোগিতায় কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা বলেন, নির্বাচনের পর এমপি মনোয়ার হোসেন খানের সরাসরি বাজারে এসে তদারকি সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি সৃষ্টি করেছে। রমজানজুড়ে এ ধরনের নজরদারি অব্যাহত থাকলে নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
আপনার মতামত লিখুন : :